গল্প-লাল হেরিং।

ইমারাজ, যার চোখের রং দিয়ে আঁকা রহস্যঃ প্রমান করা যায়। পুরো নাম ইমরাজ হাদিদ। বয়স তার তেত্রিশ দিয়ে পাশ করলো সবে। সবকিছুতে স্পষ্ট চিন্তা ও যুক্তি-তর্ক দিয়ে প্রমাণ করতে পছন্দ তার। '' ডান হাত চুলকালে টাকা আসবে'' এমন চিন্তাতে ইমরাজ বিশ্বাসী নয়, বরং তার যুক্তিতে অযথা হাত কেন চুলকায় সেইটার জন্য ডাক্তার দেখানো জরুরি ।

বৈশিষ্ট্য বৈচিত্র্য ইমরাজের কাছে পোশাকের চাকচিক্যের চেয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ । যুক্তিবিদ্যা উপর এম-পি-এইচ-আই-এল করে লজিক্যাল জার্নালিজম নিয়ে তার কাজ। মানুষকে জানার অধম্য কৌতুহল তাকে প্রায় দেখা যায়- মানুসিক হাসপাতাল, বয়স্ক নিবাস, রিহ্যাব সেন্টার ও কারাগারে। তার ধারণা এইসব জাগার মানুষগুলোর জীবন বা বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সাধারণ মানুষ থেকে বেশি।


ইমরাজ কখনও একজন মানুষকে পুরপুরি না জেনে তার উপর মিশ্র প্রতিক্রিয়া পোষণ করে না। এইজন্য অন্যদের নতুন পোশাকে দেখতে তার ভালো লাগলেও নিজের জন্য পুরোনো ধাঁচের পোশাকই পছন্দ ; তার ধারণা, হঠাৎ নতুন পোশাকে তার স্বাভাবিক এপিয়ারেন্স কৃত্রিমভাবে পাল্টে যায়। জ্ঞানবয়স থেকে লাল-হলুদ রঙের পোশাক কখনও পরিধান করেনি, নিজেকে সবসময় একই ভারসাম্য প্রতীয়মান রাখতে অতিরিক্ত স্যাচুরেশন হওয়া রঙের জামা কাপড় কিনলেও, ইমরাজ তা গায়ে দিয়ে ঘুমাবে কিছুদিন, এরপর রঙের কড়কড়া ভাব চলে গেলে বাহিরে পরে বের হবে। তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইমরাজ খাকি কিংবা ধূসর রংকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে,কারন- এই রঙগুলো নতুন হলেও ভিভিড তেমন চোখে পড়ে না। 


আত্রাই নদীর কাছাকাছি, নওগাঁ জেলার শান্তাহার রেল স্টেশন, বৃষ্টি আর রোদে পোড়া জরাজীর্ণ কাঠের বেঞ্চে বসে আছে ইমরাজ। খাকি ট্রেঞ্চকোট, গলায় ম্যাট ব্ল্যাক স্কার্ফ আর লেদারের বুট পায়ে, ইমরাজ পিছনে হেলান দেওয়া থেকে হাত দুটি হাঁটুতে ভর করে ঝুঁকতেই তার ঢেউ খেলানো চুলগুলো পালি ভেঙ্গে ভেঙ্গে নিচের দিকে পড়ে তার চোখের এক পাশ ঢাকতে থাকে। শীতের বিকেলের শেষ রোদ হালকা কালো ধূসর চুলগুলোকে সোনালী আভা দিতেই ইমরাজ আবার উঠে বসে, চোখের সামনে পড়া চুলগুলো আলতো মাথা ঝাঁকিয়ে প্রাকৃতিক চিরুনি দিয়ে ঠিক ঠাক করে নিল। 

এরিমধ্যে হঠাৎ পিছন থেকে একটা অস্পষ্ট কণ্ঠ বলে উঠলো; তুমি তাহলে ইমরাজ?  

ইমরাজ পিছন ফিরে তাকাতেই দেখলো একজন ''মিডল এজ ওমেন''' হাত দুটি ভাঁজ করে শালীন ভাবে দাঁড়িয়ে আছে,  

ইমরাজ উঠে দাঁড়িয়ে তার কথার প্রতিউত্তরে বললো; জ্বী ম্যাডাম, আমিই ইমরাজ? 

আচ্ছা, আচ্ছা— তা তুমি কি হাসতে জানো না, নাকি হাসো না?

ইমরাজ একটু বিস্মিত,‘’ইনিশিয়াল গ্রীটিং’’ এর বাহিরে এমন প্রশ্নে ভিতরে আকস্মিক ছন্দপতন হল, ইমেইল কথোপকথন আর সামনাসামনি দেখা মানুষটার প্রকাশ সম্পূর্ণ ভিন্ন্‌,, ইমরাজ এর আগে এইরকম বয়সি নারীকে এত স্মার্ট আর গুছানো সুন্দর হতে দেখেনি ,তাই দুই পড়ন্ত বিকেলর সৌন্দর্যের সংঘাতে ইমরাজ সাবধানী হয়ে বলল-- এই মুহূর্তে আমার হাসার চেয়ে সিরিয়াস থাকা জরুরি, হাসির কারণে মানসিক মনোযোগের বিগ্ন হোক সেটা চাই না।  

ওহ!হ সিরিয়াস ইমরাজ! বুঝছি, তুমি বুঝাতে চাচ্ছ এন্ডোরফিন নিঃসরণের কারণে পরিস্থিতি গুরত্ব ফিকে করে দিতে পারে! কিন্তু তারপরেও মানুষের হাসতে হয়; কাউকে প্রথম দেখায় অন্তত একটু সৌজন্যবোধ হলেও, কারন- হাসি মানুষকে সহজ করে দেয় জটিলতা ভিতর বাঁচতে।


--ইমরাজ চাচ্ছে খুব অন্য প্রসঙ্গে কথা বলতে কিন্তু ম্যাডাম নীরবির কার্টেসির কথা ভেবে হঠাৎ হাসি প্রসঙ্গ পাল্টে অন্যকিছু বলতে ইচ্ছে হলো না, তাই ইমরাজ প্রসঙ্গ লাইনচ্যুত করতে বললো- 

জানেন পৃথিবীতে শিশুদের সাথে ফার্স্ট কমুনিকেশন কি দিয়ে হয়?

জানিনা মিস্টার ইমরাজ, কি দিয়ে? 

হাসি দিয়ে। 

নিরবি স্বাভাবিক হাসিতে বলল- কিন্তু তুমি জানো না, সবাই হাসলেও তখন শিশুটি কাঁদতে থাকে । 

এক্সাক্টলি আমি এইটা বুঝাতে চাইছি, আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপট এখন এমন কেউ কাউকে বুঝে না, কে কি জন্য হাসে, কি জন্য কাঁদে; এইটা বুঝার মতো বোধ আমাদের ভিতরে নেই। কিছু জিনিস অতি প্রাকৃতিক তার মধ্যে হাসি অন্যতম, এই হাসি আমাদের অবুঝ বয়স পর্যন্ত সঠিক প্রকাশ থাকে, এরপর এই হাসি হয়ে যায়, প্রয়োজন আর সৌজন্যতার খাতির। তবে মাড্যাম আপনার সাথে যতক্ষন থাকি এর ভিতর প্রকৃত হাসি যদি দেয়া লাগে আমি হাসবো। বিলিভ মি।


এইবার নীরবি নিজ থেকে প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে বললো- কফি খাবে?

ইমরাজ বললো- কফি আমার সকালের নিয়মে আর বিকেলে অভ্যস্ত চায়ে, কিন্তু আজকে নিয়ম ভাঙতে ইচ্ছে করছে!

নীরবি নিয়ম ভেঙে অর্ডার করতে চাইলে, ইমরাজ বারণ করে বললো- আমি আমার ইচ্ছেকে কখনো আমার উপর নিয়ন্ত্রণ করতে দেয় না । আপনি বরং কফির অর্ডার করেন আমি চা খাব।

নীরবি দুজনের জন্য চায়ের অর্ডার দিয়ে বলল- তুমি কি আমাকে সত্যি জানতে আসছো? নাকি কৌতহূল মাত্র? আর কেনইবা তোমার এত সিরিয়াস থাকা জরুরি! 


ইমরাজ একটু চুপ থেকে বললো পৃথিবীতে একমাত্র কৌতহূল যদি থাকে সেইটা সৃস্টিকর্তা! যে কৌতহূল-রহস্য উদ্ঘাটন হয়ে যায় সেইটা আর রহস্য থাকে না , একমাত্র সৃষ্টিকর্তার রহস্য কৌতহূল কেউ কোনোদিন চাইলেও ভাঙতে পারবে না, আর তাই ঐটাই প্রকৃত রহস্য বা কৌতহূল । সেক্ষেত্রে ধরে নেন আপনাকে জাস্ট জানতে চাওয়ার এক বিন্দুর কৌতহূল।   


নীরবি স্মিত হাসি দিয়ে বলে; কাউকে জানতে চাইলে কি মানুষ এতো সিরিয়াস হয়?

অবশেষে ইমরাজ মোক্ষম সময় বুঝে, কিঞ্চিৎ হেসে উঠলো।

নীরবি বিস্ময় নিয়ে বললো- না হাসার কারনে কি তোমার হাসি এত সুন্দর? সুযোগ খুঁজছ! নাকি সত্যি জানতে চাচ্ছ আমাকে?

ম্যাডাম আমি কিন্তু সিরিয়াস ছিলাম? হাসার পর আপনার সন্দেহ শুরু হলো কেন?

তুমি আমার সন্ধান কিভাবে পাইছো? 

সন্ধান পাওয়া ব্যাপারটা কাকতালীয়ও; আপনার সাথে আমার কথা হচ্ছে- এইটা এইখানে না হলেও অন্যভাবে হত- সিঙ্ক্রোনিসিটি বলতে পারেন। এইটা বলে ইমরাজ হাভানার চুরুট মুখে নিয়ে বিড়বিড় করে কিছু বলতে গিয়ে চুপ করে গেল- 


ম্যাডাম নীরবি চা শেষ করে ভুলেই গেছে হাতে এখনো খালি কাপ ধরে আছে, ইমরাজকে চুরুট টানতে দেখে একটু তটস্থ হয়ে বলে উঠলো - What is it about a middle-aged woman like me that captures your interest? 


সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসা মুহূর্তে ইমরাজ চুরুট-কাটার দিয়ে পুড়ে যাওয়া অংশ কাটতে কাটতে বলল- I find myself deeply curious about you.


নীরবি হঠাৎ চোখে মুখে ভিন্নতা নিয়ে বলল- কিন্তু তুমিতো এইখানে নিরপদ না, এই শহরে এর আগেও অনেকে আমার সাথে দেখা করতে এসে ‘খুন’ হয়ে আত্রাই নদীতে পড়ে ছিল।

ইমরাজ এই কথা শুনে একটুও অবাক না হয়ে বলল-- তারা আর আমি কি এক ‘’মিস নীরবি’’!

তুমি এখনও রহস্য ইমরাজ - তবে তারা এসেছিল একটা সুযোগ নিয়ে যখন জেনেছে একজন সুন্দরী নারী একা এই শহরে, তার উপর তার হাসব্যান্ড আত্রাই নদীতে ডুবে 'মারা গেছে, ওরা চাইছিল এই সুযোগে…


ইমরাজ মুখ থেকে কথা টেনে নিয়ে বলল- আমিও যদি হয় সুযোগ সন্ধানী, তারপরেও আমাকে তাদের থেকে ভিন্ন কেন মনে হল আপনার?

কারন তোমার নিলচে আভার গাড় চোখ তামাটে বর্ণের চাহনিতে একটা স্ট্রং পারসনালিটি, তোমার হাঁটর ধরন সবকিছু মিলিয়ে তোমার চোখে মুখে দারুন অভিব্যক্তি , তোমার সাবধানে কথা বলা, হাসি লুকিয়ে রাখা সব মিলিয়ে মনে হল তুমি মানুষটা আমাকে ভালবাসার জন্য জানতে আস নাই, তুমি আসছ ‘খুনের’ রহস্য জানতে। তোমার লেস ব্লিঙ্কিং, আই রোলিং কোন কিছু স্বাভাবিক ছিল না। তুমি যে সাবজেক্ট নিয়ে আমার কাছে আসছ পড়াশুনা করতে, সেগুলা আমার অনেক আগেই পড়া হয়ে গেছে। হয়ত তুমি নতুন পড়ছ তাই কিউরিসিটি একটু বেশি, আর আমার অভিজ্ঞতা। 


ইমরাজ নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল – আপনি কি প্রমান করতে পারবেন? আমি আপনার হাসব্যান্ড ‘খুন হওয়ার রহস্য জানতে আসছি?

তাহলে কেন আসছ তুমি, যা বলবে, বা মনের ভিতর যা আছে স্পষ্ট করে বলবে!

মাডাম নীরবি আমার কাছে আপনার হাসব্যান্ড এর ব্যপারে এমন কিছু তথ্য আছে, যা শুনলে হয়ত আমার প্রতি আপনার ধারনা পরিবর্তন হয়ে যাবে। 

 

কি আছে তোমার কাছে, কি আছে , দেখাও?

..মাড্যাম স্বাভাবিক একটা ‘মৃত্যু;’-- যে নদীতে পড়ে ‘মারা’ গেছে, তার তথ্য কারো কাছে থাকলেও কি আর না থাকলেও কি? কিন্তু আপনাকে এত বিচলিত দেখাচ্ছে, কেন?

কি যে বল ইমরাজ , বিচলিত কেন হব এতদিন পর যে মানুষটা ছেড়ে চলে গেল, তার কোন কিছু জানতে চাওয়া কি অপরাধ?

না, অপরাধ না-- তবে যেখানে আপনার অভিজ্ঞতা আর আমার যেহেতু কিউরিসিটী একটু আছে, তাই আপনার স্কোইন্টিং চোখ দেখে মনে হল, যুক্তিবিদ্যার ভাষায় আপনি কিছু লুকচ্ছেন ।

ইমরাজ তুমি কিন্তু অযথা জল ঘোলাচ্ছ, তুমি ইমোশনাল ‘ম্যানিপুলেশন করে আমাকে কোডিপেন্ডেন্সি করতে চাইছ এইটা কি অস্বীকার করতে পারবে?


না আমি একবার জন্য বলিনি ‘গ্যাসলাইটিং করে আপনার সাথে সম্পর্ক জড়ানো মত কৌশল আমি ইমপ্লিমেন্ট করতে চাইছি, আপনি কনভারসেশন রিভার্স করে দেখতে পারেন আমি আপনাকে জানতে চাইছি এইটুকু। জানতে চাওয়া মানেই প্রেম, এইটা কোন লজিক্যাল কনসেপ্ট না।


নীরবি সন্ধ্যা হতেই যেন অন্য রুপে বদলে গেল, তার কণ্ঠস্বর কঠিন মুখের চাহনি এই যেন এক অন্য নীরবি- যে নীরবি চোখে চোখ রেখে শুরুতে সরিয়ে ফেলত, সে নীরবি এখন পলকবিহীন চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ করে বলল- " Mr. Imraaz, stop ‘manipulating me, please’’। এই বলে নিরবি উঠে হাটা ধরল। 


ইমরাজ নিরবির চলে যাওয়া দেখে একটু উচ্চস্বরে বলে উঠল – আজিমপুর সাহেব বাজারে পাভ্লভ হাসপাতালে আপনার একজন বোন আছে নাম- কৈরভি। 


নীরবি এই কথা শুনে আর এক কদম সামনের দিকে বাড়াল না, স্তির দাঁড়িয়ে থাকল— ইমরাজ বসা থেকে উঠে নীরবির পাশে গিয়ে বলল আপনার বোন ‘’অ্যাকিউট সাইকসিসে’’ আক্রান্ত হয়ে মানুসিক হাসপাতালে আছে যে দিনের খুব কম সময় একটু সুস্থ থাকে, বাকি সময় ডিলিউসনে কাটে তার অনেকটা বিভ্রান্তি মিথ্যা বিশ্বাস এর উপর। 


নিরবি নিরবতা ভেঙ্গে বলল তুমি আমার ব্যপারে তাহলে তার থেকে স্টাডি করে আসছ, আমার ইমেল থেকে শুরু করে ‘খুনের’ ব্যপার! তোমার কি ধারনা আমার হাসব্যান্ডকে আমি ‘খুন’ করেছি। 


না আমি কখনও ঘটনার এক পক্ষীয় কথার যুক্তিতে বিস্বাস করি না, একটা ঘটনার পিছে অনেকগুলো কারন থাকে, লাল হেরিং এর মত বিভ্রান্তি কৌশল আমি অবলম্বন করি না ।

নিরবি চেহারা আগের চেয়ে আরো ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছে দিনের মানুষের সাথে রাতে কোন মিল নেই, একদম অন্য এক মানুষ,লালছে বর্ণ থেকে হঠাৎ বিবর্ণ কালো দেখাচ্ছে খুব, হঠাৎ আমার হাত ধরে বলে তুমি যদি আজকে সুযোগ খুঁজতে তাহলে আমার আসল রুপ দেখতে যে রুপ শুধু ‘মানুষরূপী ‘পশুরা দেখে যাদের চোখে মুখে লিপ্সা ‘শকুনের মত যারা নারীর ‘শরির চাই। 


নীরবি ইমরাজ হাত ছেড়ে বলে- ট্রমা বুঝ ইমরাজ? হয়ত বুঝ! এই ট্রমা থেকে মূলত আমি 'মালঅ্যাডাপটিভ বিহেভিয়ারে ভুগছি যার কারনে রাতে তুমি যে অস্বাভাবিক মানুষটাকে দেখছ, এইটা একদিনে হয় নাই, প্রতিকূল পরিবেশে একজন মহিলা একা কেন থাকে? এই সমাজ মেনে নিতে পারে না ছিঁড়ে কুড়ে খাওয়ার জন্য প্রতিদিন শিয়াল ‘কুকুর আসে, একটা সময় ভিতরে ক্রোধ আর ঘৃণা থেকে আমি অন্য মানুষ, আমাকে স্পর্শ করে দেখো একটু ‘শকুন হয়ে, বুঝবে আমার শরির থেকে ১০০০ ভোল্টেজের শক কতটা তিব্র, একটু ‘লোভ নিয়ে আমাকে স্পর্শ করে দেখো, দেখবে আমার নখ বেড়িয়ে আসবে তোমার ‘গলা ‘টিপে ‘মারতে, এত এত ‘খুন’ আত্রাই নদীতে তারা একজনও মানুষ ছিল না সবাই আমাকে ‘ভোগ করার বাসনা নিয়ে এসেছিল। আর একটা সত্যি জেনে রাখো, যেইটা জানার তোমার কিউরিসিটি ছিল- আমার হাসব্যান্ড অনিক কৈরভির জন্য মূলত ‘খুন’ হয়ছিল! 


ইমরাজ সহজে অবাক বা হতভম্ব হয় না, কিন্তু তার লজিক তার দর্শন কোনভাবে হিসেব মিলাতে পারছে না আসলে হচ্ছেটা কি? তবুও নিজের ভিতর নিজেকে শক্ত রেখে বলল—কৈরভি আপনার হাসব্যান্ডকে পছন্দ করত জানি, কিন্তু সেই ব্যপারটা আপনি সহজভাবে নিতে পারেননি বলে আপনি তাকে ‘খুন’ করছেন তার ভাষ্যমতে। 


ইমরাজ আমি তোমাকে বলছি পুরুষ যখন ‘পশু হয়ে যায়্‌ আমি জানি এইখানে বিপত্তি, কৈরভির সাথে আমার হাসব্যান্ড এর ‘অনৈতিক ‘সম্পর্ক ছিল, কিন্ত তাদের ‘শারীরিক ‘সম্পর্কের ব্যপারটা আমি জানলেও স্বচক্ষে দেখিনি, কিন্তু একদিন আমি মোশন সিকনেসের কারনে কলেজের একটা ক্লাস নিয়ে বাসায় ফিরে আসি, এসে দেখি কৈরভি আর আমার হাসব্যান্ড একি বিছানায়, আমি সংজত রাখতে চাইছি নিজেকে কিন্তু আমার ভিতরে ‘ক্রোধ আর ঘৃণা, এই প্রথম হঠাৎ উপলব্ধি করতে লাগলাম আমার শরির পাল্টে যেতে লাগলো হাতের নখ ‘হিংস্র হয়ে গেল, গালের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল, শরিরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে গেল, এর ভিতর কখন যে আমি অনিককে ‘খুন’ করে ফেলি জানিনা, তার ভিতর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া থেকে সব ঘটে গেল আমার ক্রোধের ভিতর। কিন্তু যখন আমি স্বাভাবিক হয়ে গেলাম আমি বুঝতে পারি আমি ‘খুন’ করেছি কিন্তু আমার ভিতর সেই ‘খুনের’ জন্য কোন আপসোস কিংবা 'হীনমন্যতা নাই,..


কৈরভির ঘটনার পর থেকে আমি যখন উপলব্ধি করতে পারি কোন ‘শকুনের আঁচড় আমার শরীরে উপর পড়তে যাচ্ছে তখনি ‘খুন’ হয়।, হুম্ম,.. কেউ যদি সৃষ্টিকর্তার কাছে মন থেকে আর্জি করে পবিত্র থাকার, পৃথিবীর কোন শক্তি নাই যে তাকে অপবিত্র করে। 


 …একসময় নিরবি হাঁটতে হাঁটতে ষ্টেশনের শেষ প্রান্তে মিশে গেল ছায়ার মত। ইমরাজ ট্রেনে উঠে জানলার বাহিরে তাকিয়ে আছে লাল হেরিং বিভ্রান্তিতে—

রহস্যের জট ভাংতে এসে আরও রহস্য নিয়ে ফিরে যাচ্ছে …।



Post a Comment

0 Comments