আমার সব থেকে সুন্দর 'গুনাহ' হচ্ছে— আমি নেককার হবার ভান করি।
শুধু অন্যদের না, বরং নিজেকেও বোকা বানাই আমি।
আমার ভান এতটাই সত্যি যে,
আমি নিজেও মাঝে মাঝে ভুলে যাই— আমি সেই নই,
যেটা দেখাই।
এই জন্য বোধহয় টুপির ভিতরও আমার মাথা
গরম হয়ে যায়,
যখন অন্যর ভালো দেখি ভিতরে জ্বলে-পুড়ে শেষ হয়ে যায়।
আমি ভাবি, এটা ধর্মপ্রাণতার ঈর্ষা— কিন্তু গভীরে দেখি,
এটা শুধুই আমার অহংকারের জ্বালা,
যে আরেকজন আমার চেয়ে এগিয়ে গেল।
আমার 'আমি'টা যেন মাটিতে পড়ে থাকতে পারে না
অন্যের কল্যাণ দেখে।
এইজন্য বোধহয় টাকনুর উপর কাপড় তুলেও,
আমার অহংকার আরো বেড়ে যায়, কেউ যদি
বড় করে সালাম না দেয়।
কারণ আমি তো বাড়তি পুণ্যের কাপড় পরে আছি,
আমাকে তো বাড়তি সম্মান পেতেই হবে!
অথচ ভুলে যাই, যে বিনয়ের জন্য এই পোশাক,
সেই বিনয়টাই নেই আমার ভিতরে।
আমার পোশাক আমাকে ঢাকে না, বরং আমার শূন্যতাকেই
উন্মুক্ত করে দেয়।
কি করবো আমি?
কেউ যদি লম্বা পাঞ্জাবী পরার পরেও দাবি না করে
আমি ধার্মিক!
ওহঃ খোদা কি করবো আমি?
আমিতো কড়া আতরের গন্ধে চারিদিক সুভাস ছড়ায়।
কিন্তু এই ঘ্রাণ কি আমার ভিতরের পচনের গন্ধ ঢাকতে পারে?
যেখানে লুকানো আছে অহংকারের -মৃতদেহ, ভক্তির ক্ষুদা।
যখন ধর্মের ট্যাগ লাগানো কাপড় আমার সবচেয়ে
সুন্দর খাঁচা,
তখন তার ভিতর আমি নিজের মনের মরিচা লুকায়।
কিন্তু মরিচা তো খাঁচা ভেদিয়েই বেরিয়ে পড়ে—
আমার চোখের দৃষ্টিতে, আমার কথার সুরে,
নিজেকে বিচার না করে অন্যের বিচার করার উৎসাহে।
আমার প্রত্যেক এবাদত হলো মানুষ আমাকে 'ভালো'
বলার পুঁজি,
যেখানে সেজদায় খোদার সন্তুষ্টি থেকে—
মানুষের মুখের প্রতিবিম্বই পড়ে থাকতে দেখি বেশি।
আমি নামাজে দাঁড়িয়ে কেবলা মুখী, কিন্তু আমার মন ছুটে চারিদিকে—
কে দেখছে? কে বলছে? কে ছড়াচ্ছে আমার ইবাদতের খবর?
আমার ইবাদতের কিবলা যেন অদৃশ্যভাবে ঘুরে গেছে মানুষের দিকে।
আমার ইবাদতগুলো দেখতে খুবই পবিত্র, রমজানের খুরমার মতো,
যখন ফরজের চেয়ে নফসের হিসাব নিকাশে আমি
বেশি পাকাপাকি—
তখন বুঝি, যে ধর্মের লেবাসে আমার নেককার ভাবার
জন্য ছিল এতো আয়োজন,
আর সেটাই হয়ে গেলো আমার সবথেকে বড়
-অধঃপতনের কারণ!
আমার ধার্মিকতা আমার জন্য ফাঁদ হয়ে দাঁড়ালো।
যেই জিনিস দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার কথা,
সেটাই হয়ে গেল দূরত্বের প্রাচীর।

0 Comments: