১. সে বছর বন্যা এসেছিল রাতের অন্ধকারে। ইছামতী পাগল হয়ে জেগে উঠল, ঘুমন্ত খাসপাড়া গ্রামের বুকের ওপর যেন ছুরি চালাতে চাইল। মানুষ হাহাকার করে ছুটল— কে কাকে বাঁচায়! ঠিক সেই মুহূর্তে, কাঁধে টর্চলাইট ঝুলিয়ে, কাদাপানিতে প্রথম নামলেন আব্বাস মোল্লা।
“ও বাড়ির বাচ্চাটা... ভিতরে আটকা!” একজন চিৎকার করল।
মুহূর্তে ষাটোর্ধ্ব মানুষটা সাঁতরে গেলেন কোমর-পানি পেরিয়ে। ঝুপড়ি ঘরের টিনের চাল সরিয়ে কাঁদতে থাকা আড়াই বছরের শিশুটিকে কোলে তুলে ফিরলেন। নিজের শরীর কেটে রক্ত বেরোচ্ছে, অথচ মুখে ফুটে উঠল এক চিলতে ক্লান্ত হাসি। “যাও, মায়ের কাছে দাও।”
ভোর হতে না হতেই আব্বাস মোল্লা উঁচু রাস্তায় রান্নার ব্যবস্থা করলেন। নিজের ঘর তলিয়ে গেছে, গোলার ধান ভেসে গেছে— তবু তিনি পরম শান্তিতে এতিম শিশুদের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করছেন। গ্রামবাসী হাউমাউ করে কেঁদে বলল, “আপনারে আল্লাহ দুনিয়াতে ফেরেশতা বানায়া পাঠাইছে, মোল্লা সাহেব।”
আব্বাস মোল্লা চোখ নামিয়ে বললেন, “আমি তো মহাপাপী। এই পাপীর দোয়া কবুল হয় কি না, আল্লাহই জানেন।”
এই দৃশ্যই প্রথম ক্যামেরাবন্দী করল ইউসুফ আলী। তরুণ সাংবাদিক, শহর থেকে এসেছে ‘গ্রামীণ মানবতার স্থাপত্য’ শীর্ষক তথ্যচিত্র বানাবে বলে। খাসপাড়ায় পা রেখেই সে দেখল এক জীবন্ত কিংবদন্তিকে। আব্বাস মোল্লার স্নিদ্ধ হাসি, দাড়িতে পাক ধরলেও চোখের তারায় কোমলতা— যা দেখলে মনে হয়, এই মানুষটাকে ঘিরে জীবনটা বুঝি আরও সুন্দর।
“আমি কি আপনার ওপর একটা তথ্যচিত্র বানাতে পারি, মোল্লা সাহেব?” ইউসুফ বিনীত অনুরোধ করল।
আব্বাস মোল্লা নরম গলায় বললেন, “তথ্যচিত্র কিসের? আমি তো নগণ্য মানুষ। বরং এই গ্রামের গরিব মানুষগুলারে দেখাও।”
ইউসুফ জোরাজুরি করায় শেষে সম্মতি দিলেন। তবে একটা শর্তে— কোনো প্রশংসাবাক্য নয়, সাধারণ জীবনই দেখাতে হবে। ইউসুফ মানতে বাধ্য হল।
দুই.
ইউসুফের ক্যামেরা ধীরে ধীরে আত্মস্থ করতে লাগল আব্বাস মোল্লার দিনরাত্রির ছবি। ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে তিনি কলের পানি এনে দেন প্রতিবেশী বিধবা জরিনা খালার বাড়িতে। তারপর নিজের উঠোনে পাখিদের খাবার ছিটিয়ে দেন। সকাল সাড়ে সাতটায় বাড়ির সামনে ছোট্ট লাইব্রেরি খোলেন, যেখানে গরিব ছেলেমেয়েরা বিনা পয়সায় বই পড়ে। দুপুরে গ্রামের ক্লিনিকে স্বেচ্ছাসেবক। রাতে এতিমখানায় গিয়ে বাচ্চাদের ঘুমপাড়ানি গান শোনান। ইউসুফ ভাবে, এমন মানুষ কি সত্যিই থাকে?
একদিন ইউসুফ তাঁর পুরনো ডায়েরি উল্টাতে গিয়ে দেখে, একটা পাতা ছেঁড়া। পরের পাতায় ছোট্ট অক্ষরে লেখা— “মিলি চতুর্থ অধ্যায়”। ইউসুফের কৌতূহল হয়, “মিলি কে, মোল্লা সাহেব? কোনো আধ্যাত্মিক নাম নাকি?”
আব্বাস মোল্লা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, “মিলি আমার বোনঝি ছিল। ছোটবেলায় মারা গেছে। ডায়েরিটা বহু পুরোনো।” বলে পাতাটা উল্টে দিলেন। তাঁর কণ্ঠে বেদনার আভাস। ইউসুফ ভাবে, হয়তো শোকাহত। ক্যামেরা চলতে থাকে।
মিলি নামটা পরের সপ্তাহেই রক্তমাংসের শরীর নিয়ে ফিরে আসে। গ্রামের চঞ্চল তেরো বছরের কিশোরী মিলি হঠাৎ হারিয়ে যায়। গোটা গ্রাম খুঁজতে বেরোয়। আব্বাস মোল্লা তখন শহরে, চারজন সাক্ষী দেখেছে— গরিব মজিদ মিয়াকে নিয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেছেন। ফিরে এসে খবর শোনামাত্র তিনি কেঁদে ফেলেন। নিজে পুলিশ ডাকেন, জোরে জোরে মাইকিং করান। সবার চোখে তখনও তিনিই ভরসা।
“আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো,” তিনি মিলির মাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেন, “আমি আছি। মেয়ে ফিরে না আসা পর্যন্ত তোমার সব খরচ আমি দেব।”
ইউসুফ লেন্সের আড়ালে এই দৃশ্য দেখতে দেখতে শিউরে ওঠে। তার মনে হয়, মানবতার চূড়ান্ত ছবি ক্যামেরাবন্দী হচ্ছে। কিন্তু কেন যেন খানিকটা অস্বস্তি লাগে। আব্বাস মোল্লার কান্নার মাঝে চোখের কোণে এক চিলতে শান্তি— যেন সবকিছু আগে থেকেই জানেন।
তিন.
ইউসুফ তথ্যচিত্রের জন্য গ্রামের ইতিহাস জানতে গিয়ে খুঁজে পায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শফিক কাকুকে। আশি বছরের বৃদ্ধ, চোখে ছানি পড়লেও স্মৃতি অম্লান। ইউসুফ জিজ্ঞেস করে, “মোল্লা সাহেবের মতো মানুষ আগে এই গ্রামে এসেছে?”
শফিক কাকু একটা লম্বা শ্বাস ছাড়েন। “মোল্লা সাহেবের মতো মানুষ এ গ্রামে একটাই। কিন্তু জানো বাবা, অদ্ভুত কথা— তিরিশ বছর ধরে প্রতি বন্যায় এই গ্রামে একটা করে মেয়ে হারিয়ে যায়। অথচ প্রতিবার সেই সময় আব্বাস মোল্লা কাউকে নিয়ে শহরে থাকেন। তাই কেউ সন্দেহ করে না।”
ইউসুফের কানে যেন কেউ বিষ ঢালল। “তার মানে?”
“কোনো মানে নেই। আমি বুড়ো মানুষ, পাগলামি করি।” শফিক কাকু হঠাৎ কথা ঘুরিয়ে দেন। কিন্তু ইউসুফের ভেতরটা খচখচ করতে থাকে। সেদিন রাতে সে পুরনো খবরের কাগজ ঘাঁটতে বসে। তিরিশ বছর, এতো মেয়ে নিখোঁজ— প্রতিবারের ঘটনাস্থল নদীর ধার, বৃষ্টি, বন্যা। আর প্রতিবারই আব্বাস মোল্লা শহরে। নিখুঁত অ্যালিবাই।
পরদিন ইউসুফ আবার শফিক কাকুর কাছে ফিরে যায়। চাপাচাপি করায় বৃদ্ধ জানান, প্রথম মেয়েটি ছিল আব্বাস মোল্লার নিজের স্ত্রী— সুমাইয়া। নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ‘ভেসে গেছে’ বলা হয়েছিল। কিন্তু লাশ পাওয়া যায়নি। নিজ স্ত্রীকে নিখোঁজ করে দেয়া মানে পরবর্তীতে কেউ আর সন্দেহের তীর তার দিকে না ফেলা। এরপর প্রতি বন্যার সময় আরও মেয়ে মেয়ে হারায়। প্রত্যেকবারই মোল্লার অ্যালিবাই থাকে। “কিন্তু কে সন্দেহ করবে? ও তো ফেরেশতা,” শফিক কাকু বিস্বাদ হাসেন।
ইউসুফ আর ঘুমাতে পারে না। সে ঠিক করে, আব্বাস মোল্লার ব্যক্তিগত জীবনটা গোপনে খুঁড়বে।
চার.
সুযোগ আসে বৃষ্টিভেজা এক দুপুরে। আব্বাস মোল্লা গ্রামের ক্লিনিকে, ইউসুফ পিছন দরজা দিয়ে তার ঘরে ঢোকে। দেয়ালে টাঙানো প্রথমা স্ত্রী সুমাইয়ার বড় ছবি। নিচে তাক— সেখানে কাঁচের শিশিতে নদীর পানি, শুকনো ফুল, একটা ছোট্ট চুড়ি। ইউসুফের মনে হয়, এটা কোনো স্মৃতিসংগ্রহ নয়, বরং অদ্ভুত এক জাদুঘর।
হঠাৎ চোখে পড়ে, আলমারির নিচে লোহার আংটা— মাটির নিচে যাওয়ার সিঁড়ি। ইউসুফ টান দিতে দরজা খুলে যায়। আঁধার সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামে সে। টর্চ জ্বালিয়ে দেখে, ছোট্ট ঘর। দেয়ালে টানানো দশটা মেয়ের ছবি। সবার গালে টিপ, চোখে অদ্ভুত প্রশান্তি। এক কোণে কোরআন শরীফ রাখা, আরেক কোণে তালাবদ্ধ কাঠের বাক্স।
ইউসুফ বাক্স ভাঙতে গিয়েও থামে। তার মনে পড়ে, এখনো কিছু প্রমাণ হয়নি। সে আস্তে আস্তে উপরে ওঠে। কেবল ছবিগুলো ক্যামেরায় তুলে নেয়। ততক্ষণে শোনা যায় বাইরে সাইকেলের ঘণ্টা— আব্বাস মোল্লা ফিরছেন।
পাঁচ.
সপ্তাহখানেক পর, ইউসুফ যখন প্রায় নিশ্চিত, সে একদিন গভীর রাতে আব্বাস মোল্লার কাছে সাহস করে গেল। তখন বৃষ্টি ঝরছে, ইছামতী আবার ফুলে উঠেছে। মোল্লা দোতলার বারান্দায় বসে তাসবীহ জপছেন।
ইউসুফ বলল, “মোল্লা সাহেব, আমি আপনার নিচের ঘরটা দেখেছি। মিলিও সেখানে আছে, তাই না?”
আব্বাস মোল্লার হাত থেমে গেল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, “চলো, তোমাকে দর্শন করাই।” এক আশ্চর্য শান্ত কণ্ঠ।
সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলেন দুজন। দেয়ালের গোপন দরজা সরিয়ে আব্বাস মোল্লা দেখালেন ভেতরের কক্ষ। সেখানে চৌকিতে মিলি বসে আছে, চোখে মায়াবী ঘোর। পাশেই নরম আলো, আরেকটি মেয়ে তাকে চুল আঁচড়ে দিচ্ছে। দুজনই জীবিত, আচ্ছন্ন, যেন কোনো ভিন্ন জগতের বাসিন্দা।
ইউসুফের পিলে চমকে ওঠে। “এটা কী? আপনি ওদের মারেননি?”
আব্বাস মোল্লা হালকা হাসলেন। “মারব কেন? হত্যা মহাপাপ। আমি তো শুদ্ধ করি। জানো, ইউসুফ, প্রতিটি মানুষের ভেতর এক শয়তান থাকে। আর ফেরেশতা হতে চাইলে ওই শয়তানকে লালন করে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। আমি নিজেই সবচেয়ে বড় পাপী। কিন্তু আমি পাপ করি একান্ত গোপনে, আর বাইরে ভালো কাজ করি, যাতে পৃথিবীর ভারসাম্য থাকে।”
“মানে?”
“আমি যখন বন্যার রাতে এতিম বাচ্চাকে বাঁচাই, তখন মনে মনে জানি, পরের বন্যায় আমি একটা মেয়েকে তুলে নিয়ে আসব। এই যে দশটা মেয়ে, এরা আমার খাদেমের মতো। আমি ওদের আত্মাকে পবিত্র করেছি, ওদের পৃথিবীর নোংরামি থেকে সরিয়ে এনেছি। এখন ওরা ফেরেশতার ঘরে থাকে। ওরা কেউ কাঁদে না।”
ইউসুফ হতভম্ব। “আপনার স্ত্রীও কি...?”
“সুমাইয়া আমার প্রথম শুদ্ধি। ওর জন্য আমি প্রতিদিন কাঁদি, ওকে আমি বলিদান দিছি, ওর জন্যই আমি আরও ভালো হই। তুমি কি বোঝো না? শয়তানের অস্তিত্বই ফেরেশতার আসল শক্তি। দুনিয়াতে যে সম্পূর্ণ ভালো, সে আসলে মিথ্যা। কিন্তু যে ভেতরে খারাপ রেখেও বাইরে আলো ছড়ায়, সেই প্রকৃত ঈশ্বর-প্রেরিত।”
আব্বাস মোল্লার গলায় কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তিনি গর্বিত। ইউসুফ দেখে, মেয়েগুলো তাঁর দিকে ভক্তি ভরা চোখে তাকিয়ে আছে। কোনো প্রতিবাদ নেই। এ যেন মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ— আত্মার হরণ।
ছয়.
ইউসুফ কোনোভাবে বেরিয়ে এলেও পুলিশে যেতে পারে না। কারণ মোল্লা তাকে জানিয়ে দেন, “তোমার কাছে প্রমাণ নেই। মেয়েগুলো কেউ জোর করে নেই, তাদের বাবা-মা কোথায়, তা প্রমাণ করা অসম্ভব। আর যদি তুমি চেষ্টা করো, কাল রাতেই ওরা সত্যিই ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাবে, আর তুমি ফেসবুকে ভাইরাল হবে এক মানসিক ভারসাম্যহীন সাংবাদিক হিসেবে।”
আরও ভয়াবহ কথা—গ্রামের কেউ বিশ্বাস করবে না। বরং ইউসুফকেই পাগল ভেবে পেটাবে।
পরের বছর খবর আসে, আব্বাস মোল্লা পাচ্ছেন “জাতীয় সমাজসেবা পুরস্কার”। ইউসুফ টিভিতে দেখে, মোল্লা একই সাদা পাজামা-পাঞ্জাবিতে পুরস্কার নিচ্ছেন, মাথায় বেগুনী টুপি, চোখে স্নিগ্ধতা। পর্দার নিচে লিখা ভেসে ওঠে: “মানবতার ফেরেশতা।”
কিন্তু পুরস্কার নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে আব্বাস মোল্লা যা বললেন, তাতে ইউসুফের রক্ত হিম হয়ে গেল। এক সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, “আপনার এতো মানবতার পেছনে ধর্মের অনুপ্রেরণা কতটুকু?”
আব্বাস মোল্লা এক অদ্ভুত হাসি হেসে বলেছিলেন, “ধর্ম? ধর্ম তো সুন্দর একটা পোশাক। আমি এই পোশাকটা পরে আছি বলেই আপনারা আমাকে ভালোবাসেন। ধরুন, আমি যদি ধর্মের পোশাক না পরতাম, তাহলে কি নিজের করা ফান্ড আমার এই এতিমখানা চলত? না।
আমি কোন ধর্ম বিশ্বাসী না, অনেক ধর্ম খুঁজেছি, খুঁজে খুঁজে বুঝে গিয়েছিলাম— ইসলামের উদারতা, দয়া, গরিবের পাশে দাঁড়ানোর এই যে সৌন্দর্য, এগুলো যদি আমি বাইরে ফুটিয়ে তুলতে পারি, তাহলে ভেতরে যা খুশি করলেও কেউ প্রশ্ন করবে না।”
সাংবাদিক ঘর নিস্তব্ধ।
আব্বাস মোল্লা চালিয়ে গেলেন, “আমার ধর্ম একটাই। পাপ। বিশুদ্ধ, খাঁটি পাপ। সেটাই আমার আসল ইবাদত। এই যে আমি রাতে যা করি, সেটা ঈশ্বরের জন্য না, আমার নিজের তৃপ্তির জন্য। আর দিনের বেলা আপনাদের জন্য অভিনয় করি। কিন্তু এই ধর্মের উদারতার ছাতাটা এত বড় যে, এর নিচে আমার পাপের পুরো সাম্রাজ্য অনায়াসে লুকিয়ে থাকে। আপনারা দেখেন শুধু ছাতাটা। ভেতরে কী আছে, দেখার চোখ কারও নেই।”
এখন আমার এতো এত ভক্ত মুরিদ তারা আমার এই কথাগুলো বিশ্বাস করবে না।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল কিছুক্ষণের জন্য। কিন্তু আব্বাস মোল্লার নিজ এলাকাসহ পুরো দেশ জুড়ে যে পরিমান ভক্ত, তাঁদের কাছে উনি পীর, উনি এতোটাই প্রভাবশালী যে, ভক্তদের গালাগালি, একপ্রকার উত্তেজনায় খবরগুলো মুছে ফেলা হয় উনাকে “মানসিক চাপ দিয়ে এসব বলানো হয়েছে” এই তকমা দিয়ে।
তাঁর ভক্ত সমগ্রর ধারণা, “উনাকে বাধ্য করা করা হয়েছে, নইলে এমন ফেরেশতার মত মানুষ এ কথা বলতেই পারেন না।”
উনি হাসলেন, সবাইকে উদ্দেশ্য করে আবার বললেন, এদেশের মানুষ ধর্মকে নিজে বুঝেশুনে পালন করার চেয়ে পীর আউলিয়ার কথা বেশি পালন করেন, কুরআন হাদিস পড়ার চেয়ে পীরের কিচ্ছা এইসব মুরিদদের কাছে বেশি ভালো লাগে, আমারও এখন অনেক মুরিদ ভক্ত আছে। আমি যদি বলি, "নামাজ ছেড়ে দাও, মনের পবিত্রতা আসল" ওরা নামাজ ছেড়ে দিবে।
এইসব বলতে বলতে বাহিরে ভক্তদের মিছিলের শব্দ শুনা গেলো
"আব্বাস মোল্লার কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে।"
ভক্তকুলের এখনও ধারণা আব্বাস মোল্লা চাপে পড়ে এমন আবোলতাবোল বলছে।
উনাকে নিয়ে এসব সম্প্রচার বন্ধ না হলে ভক্তরা সাংবাদিকের 'কল্লা' ফেলে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন।
ইউসুফ টিভি বন্ধ করে দেয়। জানালার বাইরে তাকিয়ে সে ফিসফিস করে বলে, “তুমি আসলে ভাগ্যবান, আব্বাস মোল্লা। তুমি ধর্মের পুরো বাগানটা চুরি করে তার ছায়ায় পাপের রাজ্য বানিয়েছো। অথচ বাগান দেখে সবাই ভাবে, এ তো স্বর্গেরই টুকরো।”
তার মনে পড়ে মোল্লার শেষ কথাটা— “ধর্ম যেখানে পোশাক, সেখানে ভেতরটার বিচার কেউ করে না, করে শুধু পোশাকের সেলাই।”
ইউসুফ বুঝতে পারে, আব্বাস মোল্লা আসলে কোন ধর্ম বিশ্বাসী না সব ধর্মেরই প্রতিদ্বন্দ্বী। কারণ তার আসল উপাস্য পাপ, আর প্রচলিত ধর্মের সব সৌন্দর্যই তার জন্য শুধুই আড়াল। এটাই তার আসল জয়— ভেতরে নরক পুষেও বাইরে জান্নাতের প্রতিনিধি হয়ে বেঁচে থাকা।







Let’s connect
Were this world an endless plain, and by sailing eastward we could for ever reach new distances