আমার ঘরের কোনায় একটা বিবর্ণ ক্যাকটাস আছে;
এটা মানুষ থেকে অবহেলা, অবজ্ঞা পাওয়ার পর লাগিয়েছি,
সবাই জানে ক্যাকটাসের ওতো জল আর শীতল বাতাসের প্রয়োজন হয়না—
যে কিনা মরুভূমির সব রহস্য জানে,
তাই কোমল জল না পেলেও টিকে থাকার শিল্পটা তার রক্তে।
আর এই নির্জন ক্যাকটাস শরীরে জমিয়ে রাখে মরু-জীবনের মন্ত্র,
অবজ্ঞার কাঁটা গায়ে বিঁধলেও সে ফোটায় একাকী ফুল—
যে ফুল জানে, প্রত্যাশার জল ছাড়াও নিজের রক্তের রসে বেঁচে থাকা যায়।
আমার ঘরের দেয়ালে একটা শঙ্খ ঝুলানো আছে,
এটা মানুষের অনাগ্রহের ভাষা চিনার পর কিনেছি,
শঙ্খটা ফাটল ধরা, রঙ হারানো; তবু কানের কাছে ধরলে সমুদ্রের গর্জন শোনায়—
যার নিজের ভেতরে মহাসমুদ্র তার কাউকে আর জীবনের কোলাহল শুনানোর প্রয়োজন হয়না।
আমার সম্পত্তি বলতে একটা চশমা আছে—
মানুষের শতরূপ দেখতে দেখতে দৃষ্টি হারিয়েছি অনেক আগেই,
তাই এই চশমাটা পরার পর—
এখন আমি শুধু সত্যিটা দেখতে পারি, কে কী জন্য হাসে, কী বলতে চায়।
আর এই চশমাটা চোখে তুললেই উবে যায় সব মুখোশের কারুকাজ,
এ চশমাটা শুধু দৃষ্টি ফেরায় না, চোখের ভাষা পাল্টে দেয়—
আমি এখন অন্ধের মতো শুনি, বধিরের মতো দেখি,
আর ঠিক যেখানে সবাই মাখনের মতো গলে যায়,
আমি সেখানেই পাথর হয়ে বসে থাকতে শিখে গেছি।
শিখে গেছি অ্যাসপিডিস্ট্রার এর মতো বেঁচে থাকা,
যাকে ধুলো, আঁধার, অনাদর কোনো কিছুই নোয়াতে পারে না।
মেরুদণ্ড নিয়ে জন্মেছি বলেই আমি মানুষ;
যাকে যতই অপমান, অবহেলা আর অবজ্ঞা দাও, সে ততই সোজা হয়ে ওঠে।
