The Bengali Storyteller

  ১. চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়াম রোডের পাশে আমার ভাড়াবাসা। আমি রাফি চৌধুরী—প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির বেকার স্নাতক, বর্তমানে এক ট্রাভেল এজেন্সির...

গল্প: মাজার রহস্য।

 ১. চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়াম রোডের পাশে আমার ভাড়াবাসা। আমি রাফি চৌধুরী—প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির বেকার স্নাতক, বর্তমানে এক ট্রাভেল এজেন্সির হিসাবরক্ষক। জীবনটা আমার সাদামাটা, যতক্ষণ না দরজায় কড়া নাড়েন আমার ফুফি রাবেয়া বেগম।

ফুফি মানেই ঝড়। রাত পৌনে এগারোটায় এসে দরজা না টোকা দিয়ে জানালায় টোকা দিলেন। “রাফি, দরজা খোল তাড়াতাড়ি। না হয় পাশের বাসার আন্টি ভাববে আমি তোর অবৈধ প্রেমিকা।”

আমি দরজা খুলতেই দেখি ফুফির হাতে ঝোলা ব্যাগ, মাথায় ওড়না-জড়ানো, পরনে জামদানি শাড়ি আর পায়ে কেডস। গলায় ঝুলছে প্রকাণ্ড এক তাবিজ, আর চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা। চলনে-বলনে ফুফির চিরদিনের ফাজলামো—কিন্তু চোখ দুটো সিরিয়াস।
“ফুফি, এত রাতে?”
“ জরুরি কাজ দিন রাত কী বুঝে। তুই ব্যাগ গোছা। আমরা যাচ্ছি ফটিকছড়ি।”
“কেন?”
ফুফি আমার খাটের ওপর বসে ঝোলা ব্যাগ থেকে একটা পুরোনো খবরের কাগজ বের করলেন। শিরোনাম: “শাহেদিদ মাজারে অলৌকিক কেরামতি, দূরারোগ্য ব্যাধি সেরে যাচ্ছে এক স্পর্শে!”
“ফুফি, শাহেদিদ মাজার তো মহান সাধকের। ওটা তো বিখ্যাত দরগা।”
ফুফি চোখ পাকিয়ে বললেন, “ওটা আসল শাহেদিদ মাজার না। আসল শাহেদিদ দরগা ইরানে। এটা একটা কপি-পেস্ট মাজার, যারা আসল মাজার বলে চালায়। আর ওখানে নাকি এখন নতুন পীর এসেছেন—নিজের নাম দিয়েছেন ‘শাহে কিবরিয়া হুজুর’। মানুষের পকেট কাটছেন ধর্মের নামে। তোর খালাতো ভাই ফাহিম গেছে ওখানে চাকরির জন্য  মানত করতে, এখন নিখোঁজ আর খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”
“ফাহিম? ফাহিম তো সৌদিতে ছিল!”
“ছিল। ফিরে এসে বেকার। এখন বেকারত্ব সারাতে গিয়ে হারিয়ে গেছে। তোর খালু কেঁদে কেঁদে আমাকে বলছে। আমি বলেছি, ‘চিন্তা কইরো না, আমি আর রাফি আছি, ওকে ফিরিয়ে আনবোই।’ এখন চল।”
“ফুফি, আমি তো কোনো ডিটেকটিভ না।”
“তুই এখন থেকে ডিটেকটিভ। তোর দাদু বলতেন, বেকার ছেলেরাই ভালো ডিটেকটিভ হয়। কারণ তাদের নষ্ট করার মতো সময় ছাড়া আর কিছু নেই।”
২. শাহেদিদ মাজারের ভেতরে।
পরদিন ভোরে আমরা পৌঁছলাম ফটিকছড়ির গহিনে সেই মাজার চত্বরে। জায়গাটা বেশ বড়—উঁচু গম্বুজ, চারপাশে পাকা রাস্তা, দোকানপাট বসে গেছে মাজারের নাম ভাঙিয়ে। একপাশে তসবি-তাবিজের দোকান, আরেকপাশে ‘কেরামতির পানি’ বিক্রি হয় পঞ্চাশ টাকায় এক বোতল। সামনে বড় গেট, তাতে সাইনবোর্ড: “আলহাজ্ব শাহে কিবরিয়া হুজুর দরবার শরীফ”।
গেটে দাঁড়ানো মুরিদ—নাম মৌলভী জাবের। পরনে পাঞ্জাবি, চোখে কাজল, দাড়ি সুন্দর করে ছাঁটা। হাতে ওয়াকিটকি।
“আসসালামু আলাইকুম। কী চান আপনারা?” জাবেরের কণ্ঠে কাস্টমারের প্রতি বিশেষ টান।

ফুফি এগিয়ে গিয়ে বললেন, “ওয়ালাইকুম আসসালাম। আমি রাবেয়া বেগম, অনেক দূর থেকে আসছি। এই ছেলে আমার ভাইপো রাফি, ডিপ্রেশনের রোগী। সারাক্ষণ মুখ শুকিয়ে পড়ে থাকে। হুজুরের কাছ থেকে তাবিজ নিতে চাই।”

আমি ভুরু নাচাই। ফুফি আমাকে ডিপ্রেশনের রোগী বানিয়ে ফেলেছে!

জাবের বলল, “হুজুরের দর্শন পেতে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্যাকেজ আছে তিনটা—আশীর্বাদ প্যাকেজ পাঁচশো টাকা, খাস কেরামতি প্যাকেজ দুই হাজার টাকা, আর ভিআইপি মুরিদি প্যাকেজ পাঁচ হাজার টাকা।”

ফুফি একটু ভেবে বললেন, “আমরা খাস কেরামতি নেব। কিন্তু ভেতরে গিয়ে টাকা দেব।”

জাবের আমাদের ভেতরে নিয়ে গেল। মাজারের ভেতরটা পর্দা দিয়ে ঘেরা। এক পাশে সারি সারি করে মানুষ বসে আছে, কেউ কাঁদছে, কেউ তসবি জপছে। আরেক পাশে কাউন্টার, যেন সিনেমা হলের টিকিটঘর। তাতে বড় করে লেখা: “মনের আশা পূরণে মুরিদি গ্রহণ করুণ। ব্যাংক কার্ড গ্রহণযোগ্য।”

ফুফি ফিসফিস করে বললেন, “এটা মাজার নাকি দরগা? মনে তো হয় শপিংমল।”

আমি আশপাশ দেখছি। এক জায়গায় হুইলচেয়ারে বসা এক মধ্যেবয়স্ক বৃদ্ধা, হুজুর এসে তার কপালে হাত রাখতেই তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন! উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে গেল “আল্লাহু আকবর” বলে। ফুফি সেদিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, “মিথ্যে নাটক, ওই বৃদ্ধা আগে থেকেই দৌঁড়াতে পারেন। আমি ওনাকে চিনি, চট্টগ্রামের টিভি নাটকের এক্সট্রা আর্টিস্ট।”

“ফুফি, তুমি চিনলে কী করে?”

“আমি সব চিনি। এখন চুপ কর। হুজুর আসছে।”

৩. হুজুরের পরীক্ষা।

হুজুর শাহে কিবরিয়া এলেন ভারী চেহারায়। পরনে সাদা জোব্বা, গলায় দামি আতর মাখা রুমাল, আঙুলে পাথর বসানো আংটি। দাড়ি আছে কিন্তু খুব পরিপাটি। চেহারায় রাজনীতির নেতার মতো ছাপ। তিনি সিংহাসনের মতো একটা চেয়ারে বসলেন।

ফুফি সামনে গিয়ে বললেন, “হুজুর, আমার ভাইপো বড় অসুস্থ। কোনো ডাক্তার তার রোগ ধরতে পারছে না। আপনি যদি একটু ফুঁ দিয়ে দিতেন।”

হুজুর চোখ বন্ধ করলেন। তারপর হঠাৎ চোখ খুলে বললেন, “ওর ভেতর জ্বিন ঢুকছে। এই জ্বিন খুব শক্তিশালী। তাড়াতে গেলে বিরাট দান করতে হবে।”

ফুফি কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন, “কত টাকা হুজুর?”

“জ্বিনের শক্তি বুঝে দান। আগে দশ হাজার টাকা নগদ দিতে হবে, সাথে সাতদিন রোজা রাখতে হবে।”

ফুফি পকেট থেকে একটা মিষ্টির প্যাকেট বের করলেন। “হুজুর, এটা অনেক যত্ন করে বানানো, একটু খান। আমাদের বাড়ির বিখ্যাত গাজরের হালুয়া।”

"হুজুর খেতে চায়লেন না।"

ফুফির একটা গুণ আছে ইনস্ট্যান্ট কান্না করে দিতে পারে।


হুজুর ফুফির কান্না দেখে হালুয়া খেলেন। ঠিক পাঁচ সেকেন্ড পরেই তার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। তিনি গলা চেপে ধরে বললেন, “এটা কী?”

ফুফি শান্ত গলায় বললেন, “হালুয়া, কিন্তু তাতে একটু তেঁতুলের গুঁড়া আর ইচিং পাউডার মেশানো। আপনাকে এখন জ্বিন খুব জ্বালাবে। এইবার বলুন, আপনার জোর করে বানানো মুরিদ ফাহিম কোথায়?”

হুজুর চিৎকার করে মাটিতে গড়াগড়ি দিতে লাগলেন। জাবের দৌড়ে এল, কিন্তু ফুফি তাকে থামিয়ে বলল, “আপনি চুপ থাকুন, নইলে আপনার জন্যও এক প্যাকেট আছে।”

ঠিক তখনই হুজুর গলা ছেড়ে বললেন, “ পেছনের ঘরে সব আছে!”

৪. সত্যি উন্মোচন।

আমরা পেছনের ঘরে গিয়ে দেখি, সেখানে একটা অফিস। টেবিলে কম্পিউটার, প্রিন্টার, আর ফাইল ফাইল কাগজ। দেয়ালে টাঙানো মাজারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট। একপাশে রাখা গ্লিসারিন(যাতে আবেগে কাঁদতে পারে), আরকে পাশে রাখা ফগ মেশিন আর ওই ওয়াকিটকি সিস্টেম—যা দিয়ে জাবের হুজুরকে ইঙ্গিত দিত বড় হুজুর কেরামতি দেখানোর সময়।

আরেকটা ঘর খুলে দেখি, ফাহিমসহ আরও পাঁচ-ছয়জন বসে আছে। ওরা আসলে জিম্মি ছিল—এদের দিয়ে জোর করে কাজ করানো হতো, আর পরিবারকে বলা হতো তারা মুরিদ হয়ে গেছে, ওরা ধ্যানে আছে আল্লাহর দিদার পেয়ে গেছে। ফাহিম আমায় দেখে কেঁদে ফেলল।

কিন্তু আসল ধাক্কাটা তখন লাগে যখন দেখি, মাজারের নিচে আরেকটি বেজমেন্ট। সেখানে চলছে ইয়াবা তৈরির কারখানা! হুজুর ধর্মের নামে মাজারকে ব্যবহার করছেন মাদক চক্রের কাভার হিসেবে।

ফুফি ব্যাপারটা দেখে বললেন, “জানিস রাফি, ধর্মের নামে যারা ব্যবসা করে, তাদের আসল ধর্ম থাকে টাকা। আর টাকার ধর্মে সব পাপই হালাল।”

আমি পুলিশে ফোন করলাম। ফুফি ইতিমধ্যে জাবেরকে বললেন, “তোমার হুজুরের আসল নাম শামসুদ্দিন মোল্লা। দশ বছর আগে ছিল নোয়াখালীর এক মক্তবের শিক্ষক। তারপর হঠাৎ পীর বনে গেছে। আর তুমি, জাবের, ছিলে তার ছাত্র।”

জাবেরের মুখ সাদা। “আপনি এসব জানলেন কীভাবে?”

ফুফি ঝোলা ব্যাগ থেকে একটা মোবাইল বের করলেন। “গত রাতে আমি তোমার মাজারের হিসাবনিকাশের ওয়েবসাইট হ্যাক করেছি। তোমাদের সব তথ্য এখন আমার কাছে।”

“আপনি হ্যাকার?”

“আমি রাবেয়া বেগম। কিছু না কিছু সবই পারি। এখন বলো, আসল বড় বস কে? কারণ শামসুদ্দিন তো একটা প্যাদা।”

জাবের ফিসফিস করে বলল,  "আপনি তো সবই জানেনই আর কী বলবো। উনি হলেন আলহাজ্ব ইদ্রিস সওদাগর। কিন্তু উনি কখনো মাজারে আসেন না। সব কার্যক্রপ চালান দূর থেকে।”

ফুফি চোখ মিটমিট করলেন। “ইদ্রিস সওদাগর… মানে সেই ইদ্রিস? যে কিনা চট্টগ্রাম বন্দরের ইম্পোর্ট-এক্সপোর্টের বড় শ্যালক?”

“জ্বি, উনিই।”

ফুফি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “রাফি, কেস তো সবে শুরু। ইদ্রিস সওদাগর তোর দাদুর আমলের শত্রু। তোর দাদু বলত, ইদ্রিসের কাছ থেকে একটা হিসাব চুকাতে হবে। সে সময় এসে গেছে। রাফি তুই প্রস্তুত তো?”

“ফুফি, কী হিসাব?”

“সে গল্প পরে হবে। আগে পুলিশ আসুক। তারপর তোকে নিয়ে ইদ্রিসের ডেনে যাব।”

৫. শেষ নয়, শুরু...

পুলিশ এসে সবইকে আটক করল। শামসুদ্দিন ওরফে হুজুর কিবরিয়ার পেট তখনো চুলকাচ্ছে—ফুফির হালুয়া দারুণ কাজ দিয়েছে। ফাহিমকে উদ্ধার করে আমরা বাড়ি পাঠালাম। মাজার চত্বরে পুলিশের গাড়ির লাল-নীল আলোয় অদ্ভুত এক দৃশ্য। ভক্তরা হতভম্ব, কেউ কেউ কাঁদছে, কেউ বলছে “এটা পরীক্ষা ছিল!”

ফুফি মাজারের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, “পরীক্ষা তো সবাই দেয়। কেউ পাস করে, কেউ ফেল। কিন্তু যারা ধর্মকে ব্যবসা বানায়, তারা সব ফেল।”

আমি বললাম, “ফুফি, তুমি সত্যিই ডিটেকটিভ না তো?”

ফুফি হেসে বললেন, “আমি কোনো ডিটেকটিভ না, আমি তোর দাদুর মেয়ে। আর তোর দাদু বলতেন, ‘অন্যায় দেখলে চুপ করে থাকবি না। কিন্তু প্রতিবাদ করবি বুদ্ধি দিয়ে, কেঁদে-কেটে নয়।’ আর হ্যাঁ, তোর দাদু আরও বলতেন, ‘ইদ্রিস সওদাগরকে একদিন জবাবদিহি করতে হবে। আবারও বলছি সেই দিন এসে গেছে।’”

“কেন ফুফি, ইদ্রিস সওদাগর দাদুর কী করেছিল?”

ফুফি আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, “দাদু যে ট্রাস্ট ফান্ড গড়েছিল গরিব মেধাবী ছাত্রদের জন্য, সেই ফান্ডের সব টাকা ইদ্রিস সরিয়ে নিয়েছিল বিশ বছর আগে। তোর দাদু আর পারল না ঘুরে দাঁড়াতে। মরার আগে বলেছিল, ‘রাবেয়া, টাকাটা ফিরিয়ে আনবি, এটা গরীবের হক।’ আমি সেই সুযোগ খুঁজছি।”

“তাহলে তুমি ইচ্ছে করে এই মাজার কেস ধরেছ?”

“এই কেস ধরেছি, কারণ ইদ্রিসই এই পুরো মাজার-ব্যবসার ফান্ডিং করে। ওকে ধরতে গেলে ছোট ছোট সিঁড়ি ভাঙতে হবে। আজ ভাঙলাম একটা সিঁড়ি।”

আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি। ফুফি ব্যাগ থেকে পান বের করে মুখে পুরে বললেন, “চল, ফটিকছড়ি থেকে ফেরার পথে চট্টগ্রাম শহরে দম কলোনি মোড়ে বিরিয়ানি খাব। পেটে হালুয়া দেওয়া পীরের কাহিনি তো শেষ, কিন্তু বিরিয়ানি দিয়ে শুরু হবে ইদ্রিসের অধ্যায়। তুই আসবি তো?”

আমি হাসি। “ফুফি, তোমাকে ছাড়া আমার জীবনের রং নেই। চলো।”

ফুফি ট্যাক্সি থামিয়ে আমায় গাড়িতে তুলে বললেন, “শোন রাফি, শেষের দিকে এসে তুই দেখবি ইদ্রিস সওদাগর শুধু মাদক কারবারি নয়, ওর হাতে আছে চট্টগ্রাম বন্দরের এক বিরাট সিন্ডিকেট। আর সেই সিন্ডিকেট ধরতে গেলে আমাদের লাগবে তোর দাদুর পুরোনো ডায়েরি। যেটা এখন আছে ইদ্রিসের বাংকারে।”

“ফুফি, দাদুর ডায়েরি?”

“হ্যাঁ, তাতে লেখা আছে ‘আলহাজ্ব ইদ্রিস সওদাগর: অপরাধের হিসাব’। সেই ডায়েরি উদ্ধার করাই আমাদের পরবর্তী মিশন।”

ট্যাক্সির জানালা দিয়ে চট্টগ্রামের পাহাড়ি বাতাস ঢুকছে। ফুফি জানালায় মাথা রেখে গান গাইতে লাগলেন—আব্বাসউদ্দীনের সেই বিখ্যাত গান: “ও মোর গুরুর চরণ, বড়ই মধুর…”। গলা মোটেও সুরেলা নয়, কিন্তু কী যেন আছে।

আমি তাকিয়ে থাকি। এই পাগলাটে নারীকে ভালো না বেসে উপায় নেই। পৃথিবীর সব রহস্য আর সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে ফুফি একাই একশো—সেই ফুফির ভাইপো হয়ে আমি গর্বিত।