পৃথিবী বলে, “একা বাঁচা যায় না”—
আমি বলি, “একা বাঁচাই একমাত্র বেঁচে থাকা;
বাকি সবই ডিফেন্স মেকানিজম, প্রয়োজনের ভুল অনুবাদ।”
মানুষ ভাবে, সম্পর্ক মানে সেতু;
আমি বলি কতিপয়, বেশির ভাগ সম্পর্কই ট্রমা বন্ড—
দুটি অসম্পূর্ণতার পলেস্তারা।
আমি পলেস্তারা খোঁজা বন্ধ করেছি।
আমি জানি আমার দেওয়ালে ফাটল আছে,
আর আমি সে ফাটলকেই জানলা বানিয়ে ঘরের ভেতর আকাশ ডেকে নিয়েছি।
বাঁচার জন্য কাউকে অভ্যাস করা মানে নিজের.. শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি অন্যের ফুসফুসে জমা রাখা।
আমি শ্বাস নিই একা; শ্বাস ছাড়ি একা;
অক্সিজেন আর কার্বন-ডাই-অক্সাইডের এই চক্রই প্রামাণিক অস্তিত্ব।
আমি কারো উপস্থিতিকে অক্সিজেন বানাই না,
তাই তার অনুপস্থিতি কখনো শ্বাসরোধ করে না।
লোকে বলে, “অভ্যাস ভাঙলে শূন্যতা আসে।”
আমি বলি, শূন্যতা আগে থেকেই আছে;
সম্পর্ক ছিল তার ওপর চাকচিক্যের প্রলেপ। আমি প্রলেপ তুলে ফেলেছি।
এখন আমি শূন্যতার দিকে তাকিয়ে আছি—
আর সে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।
আমি শূন্যতাকে এড়িয়ে চলি না, বরং রিফ্রেম করি।
শূন্যতাই একমাত্র বর্তন যার কোনো ফাটল নেই।
অতঃপর আমার কোন কিছুতেই ভাঙন হয় না।
কারণ, প্রতারণা, অবজ্ঞা, বিস্বাসঘাতকতা—
সেসব তখনই আঘাত করে যখন কাউকে মিরর নিউরন-
এর চেয়ে বেশি ভাবা হয়।
আমি নির্ভর করি শুধু যা হারানো অসম্ভব:
আমার সীমাবদ্ধতা, আমার অক্ষমতা, আমার ভিতরের শূন্যস্থান অথবা আমার ভেঙে পড়ার সততা—
আর নির্ভর করি সেই অদৃশ্য শক্তির উপর , যে শূন্যতার ভেতর দিয়েও টিকে থাকতে শেখায়।
এটাই আমার কসমিক ডিপেন্ডেন্সি:
সৃষ্টিকর্তার কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ,আর সৃষ্টির কাছে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা।
এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আমি প্যারাডক্সিক্যাল হোলনেস—
ভাঙা, অথচ সম্পূর্ণ; একা, অথচ পরিব্যাপ্ত।
যে আমার চলে যাওয়াকে অবকাশ ভাবে,
সে আমাকে কখনো অভিন্ন এক্সিস্টেন্স হিসেবে দেখেনি—
দেখেছে কনভিনিয়েন্ট অবজেক্ট হিসেবে।
তা-ই ভালো।
তার প্রত্যাখ্যান আমার জন্য এক এক্সিস্টেনশিয়াল ক্যাথারসিস হয়ে এলো—
অর্থহীন সম্পর্কের মোহ কেটে আমি নিজের অর্থ নিজে লিখতে বসলাম।
প্রতিটা ভুল সম্পর্কের হাত সরিয়ে নিতেই আমার হাতে আমার নিজের হৃদপিণ্ড ফিরে এলো।
আমি সেটা জোরে চেপে ধরলাম— টের পেলাম,
এটাই আমি যে নিজেকে পুরোপুরি ধারণ করছি।
যে একা থাকতে জানে, সে তার এক্সিস্টেনশিয়াল ভ্যালিডেশন কারোর কাছে বন্ধক রাখে না।
তার অস্তিত্বের দলিল তার নিজের কাছেই, সাক্ষী শুধু সেই অদৃশ্য।
একা থাকতে শেখা মানে সাইকোলজিক্যাল অটোনমি অর্জন করা—
যেখানে তুমি সংসার, সোশ্যাল মিডিয়া, আত্মীয়তা, বন্ধুত্ব, দায়িত্বেবোধ ছেড়ে যাও না,
কিন্তু এইসব কোন কিছুই তোমাকে আর পুতুল নাচ নাচাতে পারে না।
মানুষ বলে, “একা বাঁচা যায় না।”
আমি বলি, “একা বাঁচতে না জানাটাই ইমোশনাল এনমেশমেন্ট-এর শেকড়।
তুমি অন্যের মধ্যে নিজেকে খোঁজো, আর হারিয়ে ফেলো দুজনকেই।
আমি পুতুল খেলা ছেড়েছি; আমি এখন পাপেটিয়ার, পুতুল নই।”
অতএব কারো আগমনকে আমি যেমন স্বাগত জানাতে পারি,
তেমনি তার বিদায়কেও হাসি মুখে অভ্যর্থনা জানাতে পারি।
জীবনে তরঙ্গ আসবে, আবার মিলিয়ে যাবে—
কেবল মহাসমুদ্রের নির্জন গভীরতাই আমি—
অথবা আমার পরিচয়।
