যে দেশে পশু দিয়ে মাপা হয় বড়লোকির মাপকাঠি—
সে দেশে কুরবানি নিছক গোশত খাওয়ার নামে একটি দিবস..
আর কিছু না—
অথচ কুরবানি শব্দের শিকড় 'কুরব'— মানে নৈকট্যের নিবিড়তা।
যেখানে নিজের মায়ার জিনিসটাকে আল্লাহর রেজামন্দির জন্য উজাড় করা,
সেখানে প্রতিবেশীর প্রশংসা, বাহবা বা ক্যামেরার ঝলকানির কোনো ফরিয়াদ নেই।
সূরা হজ, ৩৭ নং আয়াতে স্পষ্ট বয়ান আছে:
"গোশত-রক্ত" নয়, তাকওয়াই আল্লাহর কাছে পৌঁছায়।
কিন্তু এখন এই ইবাদতের পাশাপাশি বহমান আরেক জলধারা—
রসম-রেওয়াজে ঘেরাটোপে বসে আরেক আসর; নাম: 'শো-অফের কুরবানি'।
অতঃপর মান্যজন হাটে নামার আগেই ঠিক হয়ে যায়:
এবারের পশুর দামটা যেন পাড়া পড়শীর মুখে মুখে রটে বেড়ায়।
দশ লাখ, বারো লাখ, পনেরো লাখ— সংখ্যাটা যত ভারী হয়,
কাঁধের স্ট্যাটাস তত উঁচুতে;
যেন পশু কেনা নয়, চলছে ইজ্জত নিলামের মহড়া উঠা-নামাতে।
ক্রয়ের পর প্রথম কৃত্য:
'পশুর' গলায় জড়িয়ে ছবি, হাসিমুখে ফ্রেমবন্দি;
সোশ্যাল মিডিয়ায় 'কুরবানি'র তকমায় আপলোড দেওয়া ছবিতে—
আর ওদিকে মনের ভিতরের পশু চিৎকার করে বলে: "তারিফ শুনো, বাহবা নাও, ভাই জিতছো তুমি!"
তারপর 'জবাই— মাংস বিলির আগেই ফ্রিজের পেট ফুলে উঠে গলা পর্যন্ত,
গোশতের বাটখারায় ওজন করা হয় নিজের ‘দানের গৌরব’।
গরিবের দুয়ারে থলে পৌঁছানোর আগেই মোবাইলে শাটারে চাপ পড়ে;
কারণ: তবেই না "জেনারোসিটি’র" বিজ্ঞাপনটা সারা টাইমলাইনে ভাইরাল হবে!
কুরবানী এলে পশু জবাই হয় ঠিকই,
কিন্তু নিজের ভেতরের— লোভ, অহংকার, রিয়া, প্রদর্শনীপ্রিয় পশুটা,
আরো অক্ষত, বরং আরো মোটাতাজা হয়।
যখন নিজের পশুর গায়ে বুলিয়ে দিয়ে 'স্যাক্রিফাইস'-এর চকচকে তেল।
শুধু শুধু কুরবানীর নামে বোবা প্রাণীটার গলায় ছুরি দাগায়।
